সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

রাতের বৃষ্টিতে কৈ মাছ শিকার







রাতের বৃষ্টিতে কৈ মাছ শিকার
কৈ মাছ
       

          রাতেরবেলা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ঝাঁকের কৈ হয়ে পুকুর থেকে উঠে এলাম। দুই চোয়ালে ভর দিয়ে পুকুরপাড়, বাঁশতলা ও আল পেরিয়ে মাঠে নামলাম। দিগন্ত বিস্তৃত ধান চাষের মাঠ। এই বৃষ্টিতে গোছ ডোবানো জল। তখন আমার আনন্দ কে দেখে ! বদ্ধ জলাশয় থেকে মুক্তির আনন্দ ।
         কিন্তু না আনন্দ ক্ষণস্থায়ী । আমার গায়ের উপর তীব্র আলো এসে পড়ল। সঙ্গে চিৎকার 'ইউরেকা ইউরেকা পেয়েগেছি'। মনে হল যেন আমারই কণ্ঠস্বর । বহুকাল আগে গুহাবাসী আমি পশু শিকার করার আনন্দে এমন চিল চিৎকার করেছি । 
       আলো ও চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে একটা তীক্ষ্ণফলা আমাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। এরপর শিকারি বাড়িতে এসে বউয়ের হাতে মুঠোয় আমাকে দিয়ে দেয় ।
       শাশুড়ি বললেন, "বৌমা এটা নতুন জলের উজানো কৈ, গা বড্ডো হাড়হড়ে। ছাই দিয়ে ধরে কেটেকুটে ধুয়ে বেশি নুন হলুদ লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে ভাজবে। নইলে এই নতুন জলের মাছের তেমন স্বাদ হয় না।"
        আমি রক্তাক্ত শরীরে বাঁচার জন্য ছটফট করছি । বউটা ছাই ভরা শক্ত হাতে বটিতে ঘসে ঘসে আমার আঁশ ছাড়ালো। দুই শক্ত চোয়াল ওড়ালো।পেটের নাড়ি ভুঁড়ি বের করল এবং ধুয়ে কষে নুন হলুদ লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে রাখল। তারপরে শাশুড়ির দিকে মিটমিটিয়ে হেসে বলল, "মা দেখুন কৈ মাছের প্রাণ। এখনো ছটকাচ্ছে।"
         শ্বশুর ফরমাস করলেন, "বৌমা আজ একটু তেল কৈ করো। কতদিন খাইনি।"

         আজ সকাল সকাল বাজারে কৈমাছ কিনতে গেলাম। মাছ‌ওয়ালা বলে, "দাদা ব্যায়াকগা কইমাছ কাল র‌্যাইতে হাতে ধরি ল্যাইসিঠি। অতবা আঠশোর কমে হব্বেনি।"

         দাম শুনে আমি বাজারে জমা অল্প জলে মাছের মত ছটফট করছি।

_______________________________________


লেখাটি পড়ার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

শনিবার, ১১ মে, ২০২৪

দুধ ভাতের পরিবর্তে কী খাবে?

দুধ ভাতের পরিবর্তে কী খাবে?
 স্ব-খাদক




 স্ব-খাদক 


নিজেকে খেতে বেশ লাগে।
তবে সময় সুযোগ বুঝে নিজেকে খেতে হবে।

যখন বাড়িতে কেউ নেই, 
সম্পূর্ণ কোলাহল মুক্ত।
আর হাতে কিছুটা অবসর আছে
নিজেকে খাওয়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।

চুপচাপ বাথরুমে ঢুকে যাও
স্নানের নামে নিজেকে খালপোষ করে ধুয়ে নাও।

এরপর শরীরটাকে ধারালো চাপাতির নিচে রাখো
অস্থিসন্ধিতে ঝাপাঝপ কোপ মারো
দেহটাকে নির্দিষ্ট সাইজে টুকরো টুকরো করো 
এবংমশলা মাখিয়ে ঘন্টাখানেকের ম্যারিনেট।

কিভাবে ঢিমে আঁচে কষতে হবে।
কতটা বাঁশকাঠি রাইস দিয়ে
বিরিয়ানি বানানো যায়।
সব পদ্ধতি সবার জানা।
কারণ এখন ঘরে ঘরে দুধ ভাতের বদলে 
বিরিয়ানি রাজ করছে।

তাই বিরিয়ানি বানানোর কৌশল সবাই আয়ত্তে।

আর একান্ত অসুবিধা হলে
হাতের মুঠোয় ইউটিউব আছে।
সে তোমাকে উপকরণ থেকে উদার ভরণ 
সবকুছ্ শিখিয়ে দেবে।

ব্যস ইগো-সেন্ট্রিক বিরিয়ানি রেডি
এবং গরম গরম সার্ভ করো নিজেকে।

কখনো নিজেকে বোতলে পুরে 
সফট ড্রিংকস বানাও।
এই চড়া গরমে মাঝে মাঝে নরম চুমুক
মন্দ লাগবে না।

কিম্বা এটাও ট্রাই করতে পারো।
আইস পপে নিজেকে ভরে আইসক্রিম বানাও
এবং চেটেপুটে চুষে খাও।

এমন সব খাওয়ার পরে আমি বলতে পারি 
খাবার হিসাবে নিজেকে মন্দ লাগবে না।

তাড়াতাড়ি নিজেকে খাও।
ন‌ইলে অন্যেরা তোমাকে খেয়ে ফেলবে।
________________________________

লেখাটি পড়ার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

রবিবার, ৫ মে, ২০২৪

আট উপায়: এই গরমে এক গরীব লোকের ঠান্ডা থাকার নিনজা টেকনিক। ঠান্ডা থাকার আট উপায়।

আট উপায়: এই গরমে এক গরীব লোকের ঠান্ডা থাকার নিনজা টেকনিক। ঠান্ডা থাকার আট উপায়।
 ঠান্ডা থাকার নিনজা টেকনিক। ঠান্ডা থাকার আট উপায়।



     দিন দিন তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।   গরম যেন মানুষকে বলছে , 'দেখবি আর জ্বলবি'। এই গরমে এক মহাজাগতিক গরীব মানে আমি কিভাবে ঠান্ডা থাকি এবং ঘরকে ঠান্ডা রাখি তার নিনজা টেকনিকগুলি হল –

১. কাজের সময় : দিনের কাজগুলি সকাল নয়টা থেকে দশটার মধ্যে শেষ করে ফেলার চেষ্টা করি। আর, যদি কোনো কাজ পড়ে থাকে তাহলে  সে কাজ
 বিকাল চারটার পরে করব।

২. আবরণ বা ঢাকা: একান্তই রোদে বের হতে হলে ছাতা, সানগ্লাস, টুপি এবং সাদা রুমালে এসব মাথা - নাক - মুখ ঢেকে বের হই।

৩.ঠান্ডা ঘর : এই গরমে ঘর ঠান্ডা রাখতে 
কার্যকর উপায়গুলি হল –
          ৩.১ জানালা:  জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বুঝতে চেষ্টা করি, কখন গরম বাতাস ঘরে ঢুকছে। তখন জানালা বন্ধ করে মোটা পর্দা ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে ঝুলিয়ে দিই। এতে ঘর অনেকটা ঠান্ডা থাকে।
         ৩.২ মেঝে : বারবার ঠান্ডা জল দিয়ে মেঝে মুছি। এছাড়া স্প্রে বোতল দিয়ে কয়েক বার ঠান্ডা জল স্প্রে করতে থাকি।
     
      ৩.৩ খাট : ছাদ অনেক সময় গরম হয়ে সিলিং ফ্যান বা ছাদের গরম বাতাস নিচে নেমে আসে। এই জন্য দুপুরবেলা বিশ্রামের নিতে খাটের তলায় শরীরের বেশীরভাগ ঢুকিয়ে শুয়ে থাকি। এরফলে শরীরে গরম বাতাসের ঝাপটা কম লাগে।
 
         ৩.৪ পোশাক : স্নানের পর ভিজে পোশাক ঘরেই মিলে দিই। একসময় শুকিয়েও যায় এবং ঘর ঠান্ডা থাকে। এছাড়া গরমে সুতির পোশাক গায়ে দিলে আরামবোধ হয়।

       ৩.৫ ফ্যান : স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে ঠান্ডা জল কিংবা বরফের টুকরো রাখি। এতে ঘরের বাতাসের তাপমাত্রা কমে। আর সন্ধ্যাবেলা ঘরের বিপরীত মুখী দুটি জানালায় পৃথক ভাবে দুটি ফ্যান বিপরীত মুখী করে বসাই। একটি ফ্যান ঘরের গরম বাতাস বের করে দেয় এবং অন্যটি বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভিতরে ঢোকায়।

৪.খাওয়া : সুক্তো, আম ডাল, মাছের পাতলা ঝোল, ঝিঁঙে ও পটলের তরকারি, আমের চাটনি এই ধরনের খাবার খাই। শসা, টক দই জাতীয় খাবার শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

৫.পানীয় : ডাব, লেবু, নুন ও চিনির শরবত, ওয়ারেস, ইলেকট্রোল পাউডার, লস্যি ইত্যাদি যে কোন এক প্রকার শরবত পান করি। এগুলো শরীরের জলের জলের যোগান বাড়ায় এবং শরীর ঠান্ডা রাখে।

৬. উদ্দীপনা এড়ানো : ভোটের পরিস্থিতি, আইপিএলের হারজিত, নিউজ চ্যানেলে তর্ক ও 'পাশের বাসায় এসি আছে', এসব বিষয়ে কান দিই না। ফলে শরীর ও মাথা তাপমাত্রা কম থাকে।

৭.গাছ : বাড়ি চারিপাশে এবং ছাদের টবে গাছ লাগাই। গরম থেকে মুক্তির সবচেয়ে সহজ উপায়।

সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হল –

৮.মাথাকে সঠিক তথ্য দেওয়া : নিজের মাথাকে বোঝাই, "এটা গরমকাল এখন গরম পড়বে। বহু বছর ধরে এমন গরম পড়ে আসছে। মানুষ গরম গরম বলে ঘ্যানর ঘ্যানর করতে থাকে। কিন্তু গরমকে না মেনে উপায় নেই। আর গরম না পড়লে আম জাম কাঁঠাল লিচু মিষ্টি হবে না। অনেক মানুষ আছে যারা জীবিকার প্রয়োজনে এই প্রখর রোদে রাস্তাঘাটে বাড়িতে কাজ করছেন এবং কিছু মানুষ ফুটপাতে থাকে। তাদের কথা  ভাবলে গরম এমনি কমে যাবে।"

আট উপায়: এই গরমে এক গরীব লোকের ঠান্ডা থাকার নিনজা টেকনিক। ঠান্ডা থাকার আট উপায়।
ঠান্ডা থাকার নিনজা টেকনিক। ঠান্ডা থাকার আট উপায়।


_______________________________________

আশাকরি আজকের আলোচনা ভালো লেগেছে এবং ঠান্ডা থাকতে পারবেন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪

ভুল সময়ের ভুল গান


ভুল ভাষা ভুল গান













আমরা আর কিছু বলি না...
উড়ে যেতে অনেক ডানা লাগে কিনা!
পুড়ে পারিবারিক বাড়িঘর
পথ যেতে ভাঙ্গে পরিসর 
শূন্য মুঠোয় খোঁজো ঈশ্বর।

বারুদের কাছে আর...
ভোটের খেলা মাদারি সন্ত্রাস
আস্তি আসনে শাণিত তুরুপ তাস
লাগম বিনামূল্যে ফোটে কার্পাস
মনের পারাবার 
বৈতরণী হবে
একমুখী গণতন্ত্র কি বলবে?

অফিসের পাতা ফাঁদ আছে
ফাঁদ গর্তে শর্তে পাতা হাত
দুর্নীতির রাজকীয় আঁতাত
শমন আসে বন্ধ পাটের ভাত
রাজার কাজ রাজা করেন কিস্তিমাত।

আমরা তোমাকে আর বলি না...
জানি না কানে ফুল ফুটলো
সব বার নেওয়া মানুষ ব্যথাকাতর
রূপকথার মোহময়র 
সুখে থাকুকরাজ গতর
বকবক ডাকুক পোষা কবুতর 
এ বড়ো মুশকিলতন্ত্র মন্তর।

তবুক ভালো না...
উড়ে যেতে মানা আছে
পুড়ে পারিবারিক বাসর
রাস্তা পাওয়া ব্যক্তি একার
শূন্য মুঠোর ঈশ্বর।
____________________________
লেখাটি পড়ার জন্য অনেক প্রশংসা ধন্যবাদ। ভালো ব্যবহার। চিকিৎসা

শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪

কবে বৃষ্টি আসবে ? তাপমাত্রা কমার আশ্বাস।

কবে বৃষ্টি আসবে ? তাপমাত্রা কমার আশ্বাস।










        











"আল্লাহ মেঘ দে পানি দে
ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে..."

      এখন আমাদের একটাই চিন্তা গরম কবে কমবে? পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছুঁয়ে যেতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা heatwave চলছে ।

       মানুষ তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে। সকাল দশটা থেকে বিকাল চারটে পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। তীব্র রোদে ঝলসে যাচ্ছে চারপাশ। অস্বস্তি বাড়াচ্ছে গরম হাওয়া‌ এবং প্যাচপেচে ঘাম। কবে একটু বৃষ্টির শান্তির জল পাবে বঙ্গবাসী, সেটাই দেখার...

      আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন, এপ্রিল মাসের এই শেষে তাপমাত্রা কমবে না। পশ্চিমবঙ্গের আঠারোটি জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি আছে। লু প্রকৃতির গরম বাতাস বয়ে যাবে। ফলে আদ্রতা বাড়বে। যার ফলে গরমের কষ্ট ও অস্বস্তি ভাব বিরাজমান থাকবে। 

      তবে মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশে কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে‌। যার ফলে কয়েক দিনের জন্য তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন। 

কবে বৃষ্টি আসবে ? তাপমাত্রা কমার আশ্বাস।


                                     _____________________________


সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪

এতো গরম কেন। গরম বাড়ার আধুনিক ধারণাগুলো।

শান্তশিষ্ট কেষ্টবিষ্টু
 তেজ বিশিষ্ট heating prank,
সবার উপরে মানুষ নিষ্ঠুর 
   তার উপরে ceiling fan

এতো গরম কেন। গরম বাড়ার আধুনিক ধারণাগুলো।


গরম বাড়ার আধুনিক ধারণাগুলো

         এপ্রিল মাস এলেই গরমের দাবদাহ শুরু হয়ে যায়। সবাই হাঁসফাঁস করতে থাকি। প্যাচপেচে ঘাম আমাদের ক্লান্ত করে। সরকারি স্কুল কলেজে ছুটির ঘোষণা হয়। গরম বাড়ার মূল কারণ পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং আধুনিক মানুষ। সেই সব কারণগুলোই আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি এই কারণগুলো জানা থাকলে গরমেও এক প্রকার মানসিক শান্তি পাওয়া যাবে।
       
১.হট টপিক : এখন আমাদের প্রতিটি কথায় hot topic থাকে। 'কি গরম পড়েছে ভাই রে', 'দিনের বেলায় খাটে শুলে মনে হয় গ্যাস ওভেনের উপর শুয়ে আছি', 'এক তলার ঘর যেন জতুগৃহ' ইত্যাদি। কারো সাথে কথা বললে 'গরম' দিয়ে শুরু এবং 'গরম' দিয়ে শেষ হয়। প্রতিদিন গরম ভাবনা চিন্তার ফলে আমাদের গরম সহ্য ক্ষমতা কমেছে এবং mental temperament বাড়ছে। এটা গরম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

২. ভোট : #generalelections2024 চলছে। ভোটের প্রচারে একে অন্যকে চোখাচোখা শব্দ বাণ ছুঁড়ছে। এছাড়া ভোট দেওয়ার সময় যে ধরনের উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তাতে গরমের পারদ চড়চড় করে চড়ছে। 

৩. নিউজ চ্যানেলে তর্কসভা : রোজ নিউজ চ্যানেলে তর্কসভা বসে। এখানে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি, দোষারোপ গরমের যজ্ঞে ঘি ঢালে। সমার্থক দর্শকরাও গরম হয়ে ওঠেন।

 ৪. আইপিএল : নামিদামি ব্যাটাররা কতগুলো চার ছক্কা মেরে কিংবা বোলাররা কতগুলো উইকেট নিয়ে প্রিয় দলকে জেতাবে। এই নিয়ে সমার্থকদের চরম টেনশন গরম বাড়াচ্ছে।

৫. এয়ার কন্ডিশন : তোমার ঘরের এসি CFC ছড়িয়ে বাতাস গরম করছে। সে বাতাস ও চড়া রোদের তাপ আমার এসবেস্টরের ছাউনির ঘরে ঢুকছে। সিলিং ফ্যান ঘর জুড়ে গরম ছড়াচ্ছে। আর বাড়িতে চেঁচামেচি, 'কেন এসি নিচ্ছো না!' ফলে মগজ চাঁদি গরম হচ্ছে।

৬. বিজ্ঞাপন : টিভি খুললেই নরম নরম কথায় এসির advertising। 'বাড়িতে গাড়িতে cool cool আরাম পেতে এই এসি নিন, "কম খরচে হিম শীতল স্পর্শ"। যা দেখে আমাদের এসি কেনার ঝোঁক বাড়ছে। এসির EMI এবং ইলেক্ট্রিক বিল মেটাতে পকেট গরম তীব্র হচ্ছে।

৭. রিলিস টাইম : এখন আমরা সবাই রিলিস ও শর্ট ভিডিও প্রেমিক। ৩০ সেকেন্ডে আমরা সব কিছু দেখতে চাই। মানে বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন করতে চাইব। আর এই শর্ট টাইমার আমাদের মস্তিষ্কে উষ্ণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়িতে, বাসে, ট্রেনে যে কোন জায়গায় সামান্য কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠছি। আর চারপাশকে উত্তপ্ত করছি।

৮. জিয়েলাসি : তোমার টাকা গাড়ি বাড়ি সবকিছু আছে। আমার 'ভাঁড়ে মা ভবানী'। তাই jealous হয়ে সারাক্ষণ গরম হয়ে থাকি। 

৯. নগরায়ন : Urbanization জন্য ঝপাঝপ জলাভূমি ভরাট হচ্ছে। কংক্রিটে ঢেকে ঢেকে ফেলছি চারপাশ। Skyscraper গড়ছি। গাছপালা ঘ্যাচাংফু করে কেটে ফেলছি। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ছে। তাই, গরম‌ও হু হু করে বাড়ছে।
        আসলে, আবহাওয়ায় যা গরম বেড়েছে,  তার চেয়ে বেশি গরম আমাদের মনে বাড়ছে।

পরবর্তী পর্বে গরম কমানোর টিপস নিয়ে আলোচনা থাকবে...
এতো গরম কেন। গরম বাড়ার আধুনিক ধারণাগুলো।


                                              ___________________________________

লেখাটি পড়ার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ধন্যবাদ। সাথে থাকুন। পাশে থাকুন । ব্লগটিকে ফলো করুন। শেয়ার করুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

মোবাইল থেকে দূরে রাখার টেকনিক। বসন্ত দিনের গল্প। দোল উৎসব।

মোবাইল থেকে দূরে রাখার টেকনিক। বসন্ত দিনের গল্প। দোল উৎসব।



লাল আবির 


          "হ্যালো সূর্যেন্দু, এখুনি জোড়া বটতলায় চলে আয়।" বলেই; ফোন কল কেটে দেয় রিয়ানি।

         দ্রুত পোশাক পরতে থাকে সূর্যেন্দু। আমাদের চারপাশের পরিচিত জনের মধ্যে কিছু কিছু মানুষকে আমরা চরম গুরুত্ব দিই। তার কাছাকাছি থাকতে ভালো লাগে। তার ফোন কলের আশায় উন্মুখ হয়ে থাকি। সূর্যেন্দুর কাছে এমনই একজন রিয়ানি। শুধু কী মানুষ! কিছু জিনিসকে কাছে টানি। কিছু দূরে ঠেলি। যেমন মোবাইলকে কাছে টেনেছি। বইকে ঠেলেছি দূরে। সূর্যেন্দুর নাম এই তালিকায় অনেক উপরে রাখা যায়। সে পরিবারের আপন জনেদের চেয়ে রিয়ানি প্রায়োরিটি দিয়েছে। একই ভাবে মোবাইলকে জাপটে ধরে পড়াশোনাকে অবহেলা করেছে।

               পোশাক পরতে পরতে ভাবতে থাকে, 'কী হলো রিয়ানির। এমন আর্জেন্ট! কিন্তু কোনো কথা বলতে না দিয়ে ফোনটা কেটে দিল।' ১৩ই ফেব্রুয়ারি রিয়ানিকে কল করেছিল। "হ্যালো, প্লিজ টেক অ্যা সিট। বিকজ, ইউ ফেইল ডাউন হেয়ারিং দিস লাভিং ওয়ার্ড... আই আই আই লাভ ইউ।" অনেক দিনের বান্ধবীকে রোজ বলি বলি করে প্রপোজটা করা হচ্ছিল না। সব কাজে তার বড়ো দেরি হয়ে যায়। অযথা আলসেমি। এই জন্য প্রপোজ করাটাও হচ্ছিল না। আজ বলতে পেরে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। আগামীকাল স্পেশাল ডে ১৪ই ফেব্রুয়ারি। কিন্তু, মোবাইলের ওপাশ থেকে সাড়া নেই কেন!

            "রিয়ানি... রিয়ানি আর ইউ হেয়ার মি।" প্রেমের উত্তাপে জড়িয়ে গড়িয়ে ইংলিশ বলছিল। ফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রিং করলে টু টু শব্দ হচ্ছে। ওর প্রপোজ শুনে হয়তো রিয়ানি বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিয়েছে। হায় হায়, এখন ওকে মুখ দেখাব কী করে!

       মা তখন ঘরে ঢুকে ড্রয়ার থেকে প্রেসারের ওষুধ নিচ্ছিল। ছেলের দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়েছিল, 'তিনি যেন সুজার মুখে ওর অপছন্দের নিম বেগুন ঠুসে দিয়েছেন'। সূর্যেন্দুর ছোট ভাইয়ের বার্থডে কয়েকদিন পর। সে এসেছিল দাদার সঙ্গে বার্থডে সেলিব্রেটের প্ল্যান নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু দাদাকে দেখে সুবিধা মনে হয়নি। 'দাদা যেন একটা বড়ো বার্থডে বেলুন। তবে কোথায় একটা ছিদ্র আছে। সেখান দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বেরিয়ে চুপসে যাচ্ছে।'

          "কি রে সুজা, দু-দিন পর যে উচ্চ মাধ্যমিক, পড়ছিস টড়ছিস? না ওই মোবাইল আর টোটো কোম্পানি! ভালো নম্বর না পেলে সোজা বোম্বের বিস্কুট কোম্পানি... মনে থাকে যেন।" বাবা এসব কথা ছুঁড়ে দিয়ে বুঝতে পেরেছিল, ছেলে পরীক্ষায় বসার আগেই ফেল করে ভ্যাবলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

        সেই রিয়ানি ফোনে এত তাড়া দিল। মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয়। দেখা করার জন্য; সাইকেলে হয়ে উঠেছিল রয়েল এনফিল্ড। পৌঁছালো জোড়া বটতলায়। যেখানে রাস্তার দু-পাশের বেশ বড়ো দুটি বটগাছ। রাস্তার দশ-পনেরো ফুট উপরে একে অন্যের ভিতর ডালপালা চালিয়ে দিয়ে মিলেমিশে একাকার। দুই গাছের ঝুরি মাটির দিকে নেমে এসেছে।

        রিয়ানি আর ওর বোন শ্রেয়সী বসেছিল বাম পাশে রাঙা ফলে ভরা বট তলায়। সূর্যেন্দুকে দেখে হাসিমুখে উঠে আসে রিয়নি। "আমার ফোনটা খারাপ হয়ে গেছিল। আজ বাবা রিপেয়ার করে এনে দিয়েছে। তুই সেদিন কী বলছিলি শুনতে পাইনি। তবে তোর গলা বেশ উত্তেজিত লাগছিল। আর ওই জন্যই বোধহয় আমার ফোনটা খারাপ হয়েছিল।" রিয়ানি নিঃশব্দে হাসে। বুকে সাহস ফিরে আসে সূর্যেন্দুর। 'যাক বাবা, ওর ভুল ভাল ইংরেজির প্রপোজ রিয়ানি শুনতে পায়নি।'

       শ্রেয়সী একটু দূরে দাঁড়িয়ে বটের টকটকে লাল ফল খেতে আসা পাখিদের ছবি তুলছে। রিয়ানি ব্যাগ থেকে লাল আবিরের প্যাকেট বের করে সূর্যেন্দুর কপালে ছোট্ট তিলক আঁকে এবং আলতো করে দু-গালে লাগায়। "আবিরটা ফুলের পাপড়ি থেকে বানিয়েছি। প্যাকেটটা নে। কদিন পরে দোল, বাড়ির বড়োদের পায়ে দিস। ছোটদের কপালে গালে লাগাস। আর এই কাগজটা ধর। এতে তোর পড়ার রুটিন আছে। কয়েক ঘন্টা করে সব সাবজেক্ট প্রতিদিন পড়বি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এখনও দিন কুড়ি বাকি। এটা ফলো কর। যা ফাঁকি মেরেছিস, কিছুটা রিকভার হতে পারে। তবে শর্ত, মোবাইলটা আমাকে দিতে হবে। ফেরত পাবি সেই পরীক্ষার পর।"

        ফ্যালফেলে ক্যাবলা হয়ে যায় সূর্যেন্দু। মন্ত্রমুগ্ধের মতো মোবাইলটা রিয়ানির হাতে দিয়ে দেয়। "গুড বয়। পরীক্ষার পরে ঠিক এখানে দেখা হবে।" রিয়ানির কথা শেষ হতে না হতেই। একদল বাঁদর এসে বটের ডালে ডালে উদ্দাম খেলায় মেতে ওঠে। বটের লাল লাল ফল ঝরতে থাকে রিয়ানি ও সূর্যেন্দুর মাথায় এবং চারপাশে। ওদের দিকে মোবাইল তাক করে ছবি তোলে শ্রেয়সী। ছবিতে দুজনের চারিদিকে লাল লাল বাবেল।

         ওরা চলে যাচ্ছে যে যার বাড়িতে। পিছন থেকে তাড়া করে যাচ্ছে কোকিলের মিষ্টি কহুতান। অনেক বছর পর প্রতিষ্ঠিত সূর্যেন্দু প্রশ্ন করেছিল। "আবিরে কী মিশিয়ে ছিলে? যাতে আমার সব গড়িমসি উধাও করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখালে?"

           শিক্ষা সংক্রান্ত আর্টিকেল লিখতে লিখতে চোখের চশমা খুলে নরম স্বচ্ছ আপন দৃষ্টি রেখে রিয়ানি বলে, "আমার রক্ত আর বসন্ত"।

______________(প্রকাশিত গল্প)______________

লেখাটি পড়ার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ধন্যবাদ। সাথে থাকুন। পাশে থাকুন । ব্লগটিকে ফলো করুন। শেয়ার করুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।